রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

মুসাফির


যতবার মুসাফির হই-
পার করি একেকটা ভিন্ন জীবন
পৃথিবীর বুকে আমি ফেলে গেছি অগণিত মন

ঘুম ভেঙ্গে জেগে উঠি দিল্লী'র করোলবাগে
কোলাহলে মিশে থাকা মানুষের ঊর্ধ্বশ্বাসে
গাঢ় মেঘে ঢেকে যায় তাজ আর কুতুব মিনার;
মহীশুরে ফেলে আসা মসজিদ-মন্দির-চার্চ
আমি শুনি - একযোগে মেলায় আওয়াজ!

সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

কুড়ি বছর পরে

কলোনির রাস্তায় আকাশটা নেমে আসে সন্ধ্যেবেলায়
সোনালী রোদটা মেখে চুপচাপ শুয়ে থাকে অগ্রহায়ণ
বিজ্ঞাপনের রঙে পোশাক পাল্টে ফেলে দেয়ালগুলো
উদাস শিসের মত ভবঘুরে হাওয়া খোঁজে পথের হদিশ!

কোচিং-ফিরতি সেই তন্বী মেয়েটা কবে হারিয়ে গেছে
অনামিকা, নাকি তার আর কোন নাম ছিল? কারও মনে নেই
কারও মনে নেই সেই আড্ডার ছেলেগুলো কোথায় এখন;
শীতের পাখির মত ভেসে গেছে কত চিঠি ঠিকানাবিহীন...










শনিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৯

নববধূ

চেনা-পরিচিত আসবাব, চেনা ঝাড়বাতি, চেনা কার্পেট
আঙ্গিনার একচিলতে বাগানে টমেটোর চেনা সুঘ্রাণ
দুপুরের রোদে চুপচাপ চেনা ফ্যান ঘুরবার শব্দ
সবকিছু ফেলে অন্য শহরে চলে যাবে তুমি লক্ষী?

পড়ার টেবিলে শৈশব আর চেনা-পরিচিত বই সব
চেনা ল্যান্ডফোন, চেনা রিংটোন, লম্বা কথার পশরা
মায়ের হাতের কমলা চিরুনী, ভাইটা'র সাথে ঝগড়া
পরিচিত সব দৃশ্যকে রেখে একা তুমি সরে যাচ্ছো!

রবিবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৮

আগমনী

বিচ্ছিরি রোদ দিনভর করে উৎপাত
পাখিদের গান সেই কবে গেছে হারিয়ে
একঘেঁয়ে সুরে বেজে চলে শুধু রিংটোন
ক্লান্তির ভারে ফুলহীন সব উদ্ভিদ
নাগরিক মন ভুলেছে চোখের চাহিদা
প্রত্যেকে কি যে দুস্থ এবং অস্থির;
এর মাঝে দেখি জোনাকিরা খুব তৎপর-
আমার শহরে তবুও তো তুমি আসছো!

বুধবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৮

সব পাখি ঘরে ফেরে না

বলে গেছে পৌষের রাত,
চলে গেছে সময় তোমার!
আলগোছে ঘুড়ির ডানায়
ভেসে গেছে ভুল বেশুমার;

যে লিখেছে গানগুলো সব
ভুলে গেছে সুরটা চেনা,
ফেলে গেছে ধূসর লিরিক-
'সব পাখি ঘরে ফেরে না!'



শুক্রবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

আমাদের সময়ের রূপকথা (২)

আমার ছিল তিনটাকা বলপেন
রাফকাগজে লাগামবিহীন ঘোর
চোখের ভিতর অনন্ত ফুটপাতে
আছড়ে পড়ত এক-সাগরের ঢেউ
আমার ছিল স্বপ্ন এবং স্বপ্ন দেখার কেউ!

আমার ছিল দুই-চাকা সাইকেল
পঙ্খীরাজের কঠিন প্রতিযোগী
চোখের ভিতর অনন্ত ফুটপাতে
বাতাস কেটে শূন্যে ভাসতে চেয়ে
আমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখা ভিনদেশী এক মেয়ে-

সোমবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৭

শোক-প্রস্তাব

হয় যদি হোক - একটু অসুখ হোক
উৎপাতহীন বিষণ্ণতায় কাতরাচ্ছে চোখ
তুচ্ছ কথার দোহাই তুলে হোক তবে সংঘাত
এবার নাহয় ইচ্ছে করেই পালন করব শোক!

হয় যদি হোক - একটু ঝগড়া হোক
চারটে কথা বানিয়ে বলুক অকর্মণ্য লোক
একটুখানি সন্দেহ থাকএকটু অজুহাত
অনেকখানি কষ্ট পেয়ে করব কঠিন শোক!

রবিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৭

পাপ

আটকে থাকা কালো জানালার কাঁচ
তোমার গালে একমুঠো রোদ্দুর
গাড়ির গতির সঙ্গে হাওয়ার জেদ
দুচোখ তোমার অথৈ সমুদ্দুর
কানটা পাতোগানটা তোমার হারাচ্ছে তার সুর!

ভিন্ন আলোয় ভাসছে চেনা পথ
বুকের ভেতর বাড়ছে নিম্নচাপ
ছিন্ন করো এবার ভুল-শপথ
ভুলতে শেখো মিথ্যে অভিশাপ
বুঝতে শেখোআমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখা' পাপ!

শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৭

মেঘলা শহর

মেঘলা শহরতোমার সবুজ গানে
বিভোর আমি লুকোচ্ছি সব ক্ষত,
পিঁপড়েগুলো শর্করা সন্ধানে
যেমন করে সমস্তদিন ছুটছে অবিরত...
মেঘলা শহরতোমায় আমি খুঁজছি নিজের মত।

মেঘলা শহরআমার সকল স্মৃতি
তোমায় নিয়ে ঘুম-চেতনায় গাঁথা
কিন্তু এখন এমন পরিস্থিতি
পথটা আমার আটকে রাখে ঘুমভাঙ্গা বিধাতা...
মেঘলা শহরআমায় তোমার গান শোনাবার কথা!

শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৫

প্রস্থান


জলরঙে আঁকা ব্যস্ত মহানগরে
ডুব দেবো আজ - হয়তো পাবো না ক্ষমা,
মানিব্যাগে নয়, বুকপকেটের খামে
একজীবনের স্মৃতিটা থাকলো জমা
নশ্বর এই জীবনের মানে শুধু
হবে সে স্মৃতির নির্ভুল তর্জমা -
জেনে রেখো প্রিয়তমা।

শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০১৫

বেঁচে থাকার গান

ব্যস্ত সড়ক – পথের ওপর সস্তা হোটেল, কসকো সাবান
লোডশেডিং-এ জিরোচ্ছে খুব সিলিং ফ্যানের ক্লান্ত পাখা
ঘড়ির কাঁটায় আটকে সময়, নয়টা-পাঁচটা জীবন-যাপন
দিন পোহাতেই রাত্রি নামে; ছাড়পোকাদের আদরমাখা
এই জীবনে আমায় তুমি কাব্য লিখতে বলছো আবার?

বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৪

অন্ধকারের জন্মকথা

আমার আপা'র মুখটা ছিল 'আলো'র মত
অন্ধকারে সেই চেহারা ঝকমকাতো
কিন্তু ভীষণ রহস্যময় এই শহরে
কিছু গল্প থাকেই - খানিক ইতস্তত!

আপা'র ছিল হালকা শরীর শান্ত মেজাজ
চুলের বেণী দীর্ঘ এবং দেখার মত;
আমি তখন ছোট্ট ছেলে - ঘুমিয়ে পড়ি
আপা'র কোমল গল্প শোনার পর নিয়ত।

রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৪

প্লাস্টিকের হাতুড়ি

দোকানের গায়ে ঝলমলে লেখা 'নিপা জুয়েলারী শপ' 
ফণীভূষণের তিনপুরুষের জাগতিক ব্যবসা 
আবডালে বাড়ে এই দেশে কত পরিচিত সমাচার 
পথের ওপাশে মেঘদলে ভাসে চুপচাপ ঈশ্বর। 

নিপার বয়স ষোল কি সতের - হেলেনে'র পাপে পাপী 
মোড়ের দোকানে কান-কথা ওঠে গুঞ্জনে নিয়মিত 
ফণীভূষণের মোটা চশমাতে ধোঁয়া আঁকে বাষ্পে'রা 
ক্লাস টু'তে পড়া ছোট ছেলেটারও অদ্ভূত ঠেকে সব 

বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৪

আর না-বলা গল্পগুলো

৩.
মিথ্যে করে 'আর না-বলা গল্পগুলো'র জীবদ্দশায়
তোমায় ভুলে দিলাম আমি ইচ্ছেমতন আকাশ-পাড়ি;
আর যারা সব দু'চোখ বুজে নাকের ওপর চশমা বসায়,
ভাবছে তারা - 'হয়েই গেল একটা ভীষণ কেলেঙ্কারী' !

কিন্তু যারা অন্যরকম, উড়তে শিখেছিলো যারা,
তারাই বুঝে এখন কেন দেয়ালজুড়ে সাতাশটা রং;
সবটা বুঝে বলল ওরা তুচ্ছ করে সব ইশারা -
'আর না-বলা গল্পগুলো আমরা শুনতে চাই না বরং !'

মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৩

আমাদের ঘুম-ভাঙা'র ইতিহাস

জানি না কতকাল ঘুমিয়ে কেটে গেল !
টেবিলে আলো ফেলে সহসা মিসকল,
অলস কল-ব্যাকে: 'মুরাদপুরে আয় -
ডাচ-বাংলা'র মুখে দাঁড়াবো, আসবি তো?'

স্মৃতিরা জেগে ওঠে, ক্যান্ডি রেস্তঁরা
নিয়নে গম্ভীর জিইসি; তারপর
পাশ কাটিয়ে যায় ক্ষ্যাপাটে রাইডার
আমিও হেঁটে চলি। লক্ষ্য? - বিস্মৃত !

বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৩

গল্পকারের বউ

ঝুল-বারান্দা - মাটির টবে তিনটা কচি ফুলের চারা
আর বাতাসে অন্ধ-আবেগ তীব্রতর রং মেশালো
মেঘগুলো তাই ইতস্তত, ফুল দিল খুব ভুল ইশারা
একটা অবাক গল্প শুনে যেদিন তোমার মৃত্যু হল

এক পলকের স্বপ্ন দেখা, আর বারোমাস গেরস্থালি
পথের ওপর ঘর-সংসার; তারপরও কী উন্মাদনা -
ঘুম জাগলেই হাতছানি দেয় পবিত্র সেই স্বপ্নগুলি
অন্য সকল লোকের মতন 'অর্থকরী স্বপ্ন' তো না !

মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৩

মা :: কাব্য-সংকলন




অর্ধশত সংগ্রহে ভূমিকা:
মাত্র ১০টি কবিতা দিয়ে শুরু করা এই সংকলনের কাব্য-সংগ্রহ ইতিমধ্যে ৫০ ছুঁয়ে গেল। এর মাঝে ব্লগারদের লেখা কবিতাও আছে ৩ (তিন)টি। বাকি প্রায় সবগুলোই বই-পত্র থেকে দেখে দেখে টাইপ করেছি - ভুল-ত্রুটি চোখে পড়লে জানাবেন নিশ্চয়ই। এই সংকলন করতে বসে 'মা'কে নিয়ে লেখা অসাধারণ সব কবিতা পড়ে ক্রমাগত মুগ্ধ হয়েছি, এবং এখনও হচ্ছি। সংযোজন অব্যহত থাকবে অবশ্যই...

রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৩

আশ্বিন

(আমাদের আশ্চর্য-আশ্বিনের গল্প; আমাদের তারা-ভরা-রাতের গান)


আমাদের গল্পটা অভিমানে ভরা তবে আশ্বিনে মিটমাট হয়ে যায়
নীল-রোদে কোনও এক অবুঝ অচেনা পাখি খুঁজে পায় তার গন্তব্য
বাতাস চমকে উঠে বুঝে ফেলে, ফুলগুলো পরাগায়নের তরে উদ্বেল
পৃথিবীর আরও কিছু সমাধান গতি পায় - কিন্তু তা বুঝে ফেলা দুস্কর।

আমাদের কবিতা বা আমাদের গানগুলো এইসব জানত না নিশ্চয়ই:
এই নিয়ে জোনাকের ব্যস্ততা দেখে তুমি চট করে হেসে ফেলো; তারপর
বিস্মিত জোনাকিরা সমালোচনায় মেতে রাগ করে চলে যায় বহুদূর।
কৌতূহলের বশে গল্প দেখতে এসে কৌতুকে মজে যায় ঈশ্বর !

বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৩

পাখির বাসা

দ্বন্দ্ব-সমাস
ওরা নাকি তোমার নামে লিখল কীসব দু-চার কলাম?
আমি ওসব গা করিনা - এই ভরসা রাখতে পারো:
আমি নাহয় তোমায় নিয়েই কষ্ট করে নষ্ট হলাম।

পথের গল্প পথেই বাড়ে, ঘরটা আমার পাখির বাসা;
নিয়মিত সত্য শোনার এখন আমার নেই পিপাসা
বিশেষ করে সত্য যখন উপমিত কর্মধারয়।